Currently Reading

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কী শিখলে কোন কাজ ও চাকরির সুযোগ | Channel-i Online

আমাদের চারপাশে অনেকেই আছেন যারা নানান বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেও উপযুক্ত চাকুরি পাচ্ছেন না। এর মূল কারন হল, তারা যে বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন, চাকুরীর বাজারে সেই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের অভাব। সুতরাং আমরা বুঝতে পারি, চাকুরীর বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পড়াশুনা অনেক মূল্যবান।
বর্তমান বিশ্বে আইটি একটি অতি জনপ্রিয় বিষয়, আর এই জনপ্রিয়তার কারন হলঃ
  • এই বিষয়ে পড়াশুনার বই এবং উপাদানগুলি সহজ লভ্য
  • এই বিষয়ে দেশী এবং বিদেশী চাকুরি বাজারে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়
  • এই বিষয়ে ব্যবসা করার অনেক সুযোগ রয়েছে
  • শিক্ষা, চাকুরী কিমবা ব্যবসা করবার জন্য আইটি বিষয়ে জ্ঞান আর কম্পিউটার-ই যথেষ্ট
  • এটিই একমাত্র পেশা যে পেশায় ঘরে বসেও অনেক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব
  • এই পেশায় দেশে অবস্থান করেও বিদেশের কাজ করার মাধ্যমে প্রচুর উপার্জন সম্ভব
  • আইটিতে কাজের বিভিন্ন ধরণ থাকায় যেকোন শিক্ষাগত বিভাগ, পেশা বা বয়সের মানুষ কোন না কোন ধরণের আইটি কাজের সাথে জড়িত হয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে
  • আইটির কাজগুলি যেহেতু ব্যবহারিক কাজ, তাই নন-আইটি বিভাগ থেকেও একজন মানুষ আইটি বিষয়ে পড়াশুনা এবং কাজ করতে করতেও অনেক দক্ষ হতে পারে
আইটি বিষয়ের কাজগুলি তিন ভাবে করা যেতে পারেঃ ১)  ফ্রিলান্সিং করে, ২) দেশের বাজারে চাকরি করে, ৩) নিজে ব্যবসা করে
এর মধ্যে ফ্রিলান্সিং সব থেকে জনপ্রিয়, কারন দক্ষতার সাথে ফ্রিলান্সিং কাজ করার মাধ্যমে একজন মানুষ চাকুরীর থেকেও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারে। তাছাড়া, দক্ষতার সাথে ফ্রিলান্সিং করার অভিজ্ঞতা থাকলে চাকুরী পাওয়া কিমবা ভবিষ্যতে নিজেই একজন উদ্যোগতা হিসেবে নিজের ব্যবসা শুরু করার অনেক সম্ভবনা থাকে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, সঠিক পথনির্দেশনা না পাওয়ায় আমাদের দেশে অনেকেই আইটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে বার্থ হচ্ছে, কিমবা অনেক সময় সময় এবং অর্থ অপচয় করেও হতাশ হয়ে এই পথ ছেড়ে দিচ্ছে।
আমার লেখার ধারাবাহিক প্রকাশে আইটি, বিশেষ করে ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার গড়বার সম্পর্কে আমি আলোচনা করব।
কাজ বেঁছে নিন
আইটি ফ্রিলান্সিং করে অর্থ উপার্জন করা খুব সহজ, ওয়েবসাইটে ক্লিক করে কিমবা নিজের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাড দিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায় – এমন বিভিন্ন ভুল ধারণা অনেকের মাঝে আছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক এমন নানান ধরণের নন-আইটি কাজ শিখে কেউ কেউ অল্প কিছু উপার্জন করে ঠিকই, কিন্তু এই উপার্জন একটি সীমায় এসে আর উঠতে পারে না। অনেক সময় এমন কাজ শিখে সময় এবং অর্থ পুরোটাই বিফলে যায়।
আইটি ফ্রিলান্সিং এর সব থেকে লাভজনক কাজ গুলোর কথা যদি বলা হয়, তাহলে প্রথম সারিতে আসে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট(ওয়েবসাইট বা ওয়েব ভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কাজ) এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনিং (ডিজিটাল ইমেজের কাজ)। এই কাজগুলি শেখা এই কারনে লাভজনক যেঃ
  • এই শিক্ষা গুলি এমন নয় যে কদিন পর অচল হয়ে যাবে, বরং এগুলি বাজার চাহিদা সব সময় থাকবে
  • ফ্রিলান্সিং মার্কেটে এই কাজের পরিমান এবং পারিশ্রমিক অন্যান্য কাজের তুলনায় উভয়ই অনেক বেশি
  • এই কাজ গুলি শিখে আপনি শুধু অনলাইনেই নয়, বরং লোকাল মার্কেটেও কাজ পেতে পারেন
কি কি শিখবেন?
গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ
গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতে সহজ ভাষায় ইমেজ কন্টেন্ট ডিজাইনিং, এডিটিং, কাস্টমাইজেশন এগুলোকে বুঝানো হয়। গ্রাফিক্স ডিজাইনের মধ্যে লোগো, লিফলেট, ব্রসিয়ার, ব্যানার, এবং অন্যান্য পেপার প্রিন্টিং কন্টেন্ট ডিজাইন করা, কিমবা ওয়েবপেজের জন্য ইমেজ কন্টেন্ট তৈরি করাকে বুঝানো হয়।
ফ্রিলান্সিং কিমবা লোকাল মার্কেটে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। যারা প্রোগ্রামিং করতে আগ্রহী নন, বা নিজেকে দুর্বল মনে করেন বলে কাজ করতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পেশা হতে পারে যদি তাদের মোটামুটি কালার এবং স্টাইল সম্পর্কে ধারণা থাকে।
এই ধরণের কাজের জন্য একজন বাক্তিকে অন্তত নিম্নের আপ্লিকেশন গুলির ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবেঃ
  • এডোবি ফটোশপ
  • এডোবি ইলাস্ট্রেটর
 
ওয়েব ডিজাইনঃ
ওয়েব ডিজাইন বলতে সাধারন ভাষায় ওয়েবসাইট কিমবা ওয়েব আপ্লিকেশনের জন্য পেজ ডিজাইন করাকে বোঝানো হয়। বর্তমানে সমস্ত সফটওয়্যার কিমবা বিজনেস গুলোই ওয়েব ভিত্তিক, সুতরাং ভালো ওয়েবসাইট ডিজাইনারের খুবই চাহিদা রয়েছে। একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে অন্তত প্রথমে যা শিখতে হবে তা হলঃ
  • এইচটিএমএল – ডিজাইনিং ল্যাঙ্গুয়েজ
  • সিএসএস – স্টাইলিং ল্যাঙ্গুয়েজ
  • বুটস্ট্রাপ – সিএসএসের একটি ফ্রেমওয়ার্ক
  • জাভাস্ক্রিপ্ট – ব্রাউজার সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ
  • জেকুয়েরি – জাভাস্ক্রিপ্টের একটি ফ্রেমওয়ার্ক
  • এডোবি ফটোশপ – ইমেজ এডিটর
ওয়েবসাইটের পেজ/টেমপ্লেট তৈরি করে তা অনলাইনে বিক্রি করার মাধ্যমে, আবার ফ্রিলান্সিং কিমবা লোকাল মার্কেটে ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইটের ডিজাইনের কাজ করে দিয়ে অনেক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাইতে তুলনামুলক ভাবে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এই ধরণের কাজ করার মাধ্যমে। এ ধরণের কাজ শেখার আগে কিছুটা কম্পিউটার চালানো এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করার অভিজ্ঞতা থাকা ভাল।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলতে মুলত ওয়েব-সাইট এবং ওয়েব-আপ্লিকেশন তৈরি করা উভয়ই বুঝানো হয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট-এর ভিতরে ওয়েব ডিজাইন এর অংশ তো থাকেই, কিন্তু সব থেকে বেশি অংশ জুড়ে থাকে প্রোগ্রামিং। একটি ওয়েবসাইট কিমবা একটি ওয়েব ভিত্তিক আপ্লিকেশন/সফটওয়্যার কিভাবে কাজ করবে (উইজারের রিকোয়েস্ট/কমান্ডের উপর ভিত্তি করে ফলাফল দেবে) সেগুলো কম্পিউটারের ভাষার দিয়ে তৈরি করাই মুলত প্রোগ্রামিং।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কে মোটামুটি ফ্রিলান্সিং মার্কেটের সব থেকে দক্ষ এবং অর্থ উপার্জনকারী ক্ষেত্র বলা যেতে পারে। ওয়েব-ডেভেলপমেন্ট শিখতে গেলে কম্পিউটার চালানো এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইনিং এর মোটামুটি কাজ শিখে নেওয়া ভালো; আর তাহলে প্রোগ্রামিং শেখা তাদের জন্য বেশ সহজ হয়ে যাবে।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করার নানান ভাষা রয়েছে, তার মধ্যে সব থেকে বেশি ব্যবহৃত ভাষা হল পিএইচপি। তার কারন হল, আপনি যদি ফ্রিলান্সিং মার্কেটের কাজ গুলো লক্ষ্য করেন, দেখতে পারবেন, মোটামুটি ৭০-৮০ ভাগ কাজ পিএইচপি ভিত্তিক। “পিএইচপি” এর সাথে আপনাকে “মাইএসকিউএল” শিখতে হবে ওয়েব ভিত্তিক সাইট/সফটওয়ারের ডাটা নিয়ে কাজ করার জন্য।
আর, পিএইচপি/মাইএসকিউএল শেখার সব থেকে লাভ হল এই যে, অল্প সময়ে ওয়েব পোর্টাল, ই-কমার্স সাইট, ফোরাম, ব্লগ, ক্লাসিফাইড অ্যাড’স সাইট ইত্যাদি তৈরি করার জন্য যেসকল ওয়েব আপ্লিকেশন আছে তার ৯০ ভাগই এই পিএইচপি আর মাইএসকিউএল দিয়ে তৈরি; যেমনঃ ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ওপেনকার্ট, ম্যাজেন্টো, পিএইচপিবিবি, ওএসক্লাস।
আপনি যদি পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল ভাল করে রপ্ত করতে পারেন, তাহলে আপনি শুধু ফ্রিলান্সিং মার্কেটে কেন, দেশি মার্কেটে অনায়াসে চাকুরী কিমবা ব্যবসা করতে পারবেন। আর তার জন্য আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর করতে হবে এমন কোন কথা নেই। সফটওয়্যার যেহেতু এক ধরণের প্রকৌশল, এখানে ব্যবহারিক চর্চার মাধ্যমে আপনি নিজের দক্ষতাকে অনায়াসেই গড়ে তুলতে পারেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক তরুণ-তরুণী ওয়েব টেকনোলোজি রপ্ত করে নন-আইটি বাকগ্রাউন্ড থেকে পড়াশুনা করে এসেও অনেক ভালো করছে। শুধু প্রয়োজন চেষ্টা, দৈনিক চর্চা, আর ধৈর্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা আইটিতে এসে বিফল হন তাদের লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তারা একটু এগিয়ে একবার বিফল হলেই সাথে সাথে পিছপা হয়। ধৈর্য নিয়ে ৬ থেকে ৮ মাস কঠোর পরিশ্রম করলে এটা নিশ্চিত যে তাকে আর বেকার ভাবে বসে থাকার প্রয়োজন পরবে না।
আর, আপনি ফ্রিলান্সিং করতে করতে যখন আপনার পোর্টফলিও বড় করে তুলবেন, তখন লোকাল মার্কেটেও ভালো চাকুরী কিমবা ব্যবসা করার সুযোগও খুলে যাবে আপনার সামনে।
নির্ঝর আনজুম
– ফ্যাকাল্টি প্রধান, পিপলএন্ডটেক ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলোজি
– টেকনিক্যালি লিড, এসএসএল ওয়্যারলেস
.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*